চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ • বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
বিশ্বস্ত সংবাদ, পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি

ইউরোপে অবিক্রিত পোশাক ধ্বংস করার ওপর নিষেধাজ্ঞা: বাংলাদেশের জন্য আসন্ন সংকট নাকি সুযোগ?

বিশ্ব ফ্যাশন বাজারে পরিবর্তন আসছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতেও অনুভূত হচ্ছে। টেকসই বা পরিবেশবান্ধব নীতিগুলো এখন আর শুধু তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং আইনি বাধ্যবাধকতার রূপ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ‘টেকসই পণ্যের জন্য ইকো-ডিজাইন বিধিমালা’ চালু করেছে। এই কাঠামোর অধীনে অবিক্রিত পোশাক, পোশাকের আনুষঙ্গিক সামগ্রী এবং জুতা ধ্বংস বা পুড়িয়ে ফেলার ওপর উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি যে পোশাক শিল্পের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল, সেই শিল্পের জন্য এই বিধিমালাটি শুধু একটি পরিবেশগত নীতিই নয়; এটি ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক মডেল পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতও বটে। বিষয়টি সময়োপযোগী।

Read in English →
garments
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ২ মিনিট ১০১ জন এই সংবাদটি পড়েছেন
ইউরোপীয় ইউনিয়নের হিসাব অনুযায়ী, ইউরোপে প্রতি বছর বিক্রি হওয়া মোট পোশাকের ৪ থেকে ৯ শতাংশ বিক্রির আগেই নষ্ট করে ফেলা হয়। এর ফলে প্রতি বছর বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৫৬ লক্ষ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হয়, যা ২০২১ সালে সমগ্র সুইডেন দেশের বার্ষিক মোট নির্গমনের সমতুল্য।
এই ক্ষতি রোধ করতে, বড় কোম্পানিগুলোর অবিক্রিত পণ্য ধ্বংস করার উপর নিষেধাজ্ঞা ১৯শে জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। ২৫০ জনের বেশি কর্মী এবং বার্ষিক টার্নওভার কমপক্ষে ৫০ মিলিয়ন ইউরো রয়েছে এমন কোম্পানিগুলো এখন থেকে ফেরত আসা বা অবিক্রিত পোশাক ফেলে দিতে বা পুড়িয়ে ফেলতে পারবে না। ২০৩০ সাল থেকে মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলোও এই আইনের আওতায় আসবে। তবে, ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র উদ্যোগগুলো আপাতত এই নিষেধাজ্ঞার বাইরেই থাকবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পণ্য ধ্বংস করার আগে কোম্পানিগুলোকে তিনটি বিকল্পের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে:
১. ছাড় দিয়ে বিক্রি করা; ২. দাতব্য বা সামাজিক প্রতিষ্ঠানে দান করা; এবং ৩. পুনঃব্যবহারের উপযোগী করে মেরামত বা সংস্কার করা।
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকি, আইনি অসঙ্গতি, মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন বা গুরুতর ত্রুটির মতো কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া পণ্য ধ্বংস করা যাবে না। এই ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রগুলিতে, পাঁচ বছর পর্যন্ত নথি সংরক্ষণ করা, ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং একটি বার্ষিক প্রকাশ্য প্রতিবেদনে অপচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।

বাজারটা কিছুটা মন্থর।

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ইইউ-এর মোট পোশাক আমদানি ৯.৭০ শতাংশ কমে ৪১.১০ বিলিয়ন ইউরোতে দাঁড়িয়েছে। তবে, ২০২৫ সালে ইইউ-এর পোশাক আমদানি ১১.৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর অর্থ হলো, এ বছর বাজার কিছুটা মন্থর। জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অ-প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং মজুত বেড়ে যাওয়ায় ইইউ-এর ক্রেতারা তৈরি পোশাকের আমদানি কমিয়ে দিয়েছে।
গত বছরের একই সময়ের ১৮.১৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ১৬.৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফলে, বাজারে বাংলাদেশের অংশ ২২.৭৩ শতাংশ থেকে কমে ২১.০৩ শতাংশে নেমে এসেছে।
যদিও কিছু দেশের ওপর মন্দার প্রভাব কম পড়েছে, বাজার সংকুচিত হলেও ভিয়েতনামের অংশ বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তাদের রপ্তানি ০.৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, চীনের রপ্তানি ৮.৮৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
শেয়ার করুন

সংবাদটি ছড়িয়ে দিন

Facebook X LinkedIn Telegram
আপনার প্রতিক্রিয়া

সংবাদটি কেমন লাগলো?

পাঠকের মতামত

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় অনুমোদন প্রয়োজন।

এই বিষয়ের আরও সংবাদ

আরও পড়ুন

এইমাত্র ও সাম্প্রতিক

সর্বশেষ সংবাদ

পাঠকের পছন্দ

সর্বাধিক পঠিত

চাকরি বিজ্ঞাপন

আপনার প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করুন

JAR NEWS-এ দেশি-বিদেশি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি, নিয়োগ ও ক্যারিয়ার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা যাবে। নির্বাচিত বিজ্ঞাপন পেইড/প্রমোটেড পোস্ট হিসেবেও প্রকাশ করা যাবে।