বিশ্বস্ত সংবাদ, পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি

জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার দাবি

জারনিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, মঙ্গলবার রাতে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে বলে ইরানি বাহিনীর ভাষ্য।

জর্ডানে ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দূরপাল্লার নজরদারি ও হামলাকারী ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গারগুলো লক্ষ্য করে ভারী মাত্রার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে বেশ কিছু ড্রোন বিধ্বস্ত হয়েছে এবং মার্কিন উড্ডয়ন ও কারিগরি কর্মীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে ইরানি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত এক বিবৃতিতে দাবি করেছে বাহিনীটি। স্থাপনার কারিগরি অবকাঠামোর একাংশে আগুন ধরে যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

এর আগে জর্ডানের ক্যাম্প তিতিন এলাকায় মার্কিন মেরিন সেনাদের ব্যারাকে হামলার দাবিও করে আইআরজিসি। তাদের ভাষ্যে, সেখানে বহু মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং একটি অ্যাটাক হেলিকপ্টারসহ কয়েকটি স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান—দুই পক্ষই এসব হামলায় কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর অস্বীকার করেছে। মার্কিন একটি সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, ক্যাম্প তিতিনের হামলা প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানায়, ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির আকাশসীমায় ঢোকে, যার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ১০টি মাঝপথেই ধ্বংস করে দেয়। বাকি তিনটি জনবসতিহীন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়ে, যাতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে জর্ডানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট।

ইরাকের এরবিলেও হামলার দাবি

উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে মার্কিন স্থাপনায়ও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সমন্বিত হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। বাহিনীটির দাবি, এই হামলায় একটি মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামের গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়া ঘাঁটির একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যাওয়ার এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার দাবিও করা হয়েছে বিবৃতিতে।

কুয়েত ও বাহরাইনেও প্রতিরক্ষা তৎপরতা

কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শত্রু ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে, যাকে ইরানের সামগ্রিক আগ্রাসনের অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানায়, শোনা যাওয়া বিস্ফোরণের শব্দ মূলত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কর্তৃক ড্রোন ভূপাতিত করার কারণে হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা গেছে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন এলাকা ও রাডার স্থাপনা লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।

প্রেক্ষাপট

আইআরজিসির দাবি, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়াতেই এই পাল্টা হামলাগুলো চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, ওই হামলায় এক শিশুসহ চারজন নিহত ও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের একাধিক দফায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত সমঝোতা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান, প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার জবাব হিসেবে।

এই প্রতিবেদনে ইরানি বাহিনীর দাবি অনুযায়ী তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে; স্বতন্ত্রভাবে এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ অসামঞ্জস্য রয়েছে।