ইরানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি
সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন বলেন, এই কঠিন সময়ে ইরানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী পুতিন বলেন, এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্যও সরবরাহ করা হচ্ছে।
জবাবে পেজেশকিয়ান রাশিয়ার এই অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দুই দেশ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে বলে মন্তব্য করেন। ক্রেমলিনের বিবরণ অনুযায়ী তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নীতি ও অন্যায্য নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার পথ তারা একসঙ্গে খুঁজে বের করতে পারবেন বলে আস্থাশীল।
মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসনের সময় থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর হয়েছে। ইরান রাশিয়াকে ড্রোন প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে, যা দিয়ে মস্কো নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলেছে এবং তা ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের পাল্টা হামলায় লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহায়তা দিয়েছে রাশিয়া বলে জানা গেছে।
উইটকফ-কুশনারের সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কাজ করতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করার কথা জানিয়েছেন পুতিন। তিনি বলেন, যাদের তারা ভালোভাবে চেনেন এবং যাদের ওপর আস্থা রাখেন তাদের সঙ্গে কাজ করতে তাদের কোনো সমস্যা নেই। পুতিনের ভাষ্যে, এই দুই দূতের ওপর ট্রাম্পের আস্থা রয়েছে এবং তারা সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম বলেই তিনি তাদের ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।
কয়েক দিন আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এক বিরল সফরে মস্কো গিয়ে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। এই সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে পুতিন বলেন, স্নায়ুযুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ সময়েও দুই দেশের গোয়েন্দা সংস্থাপ্রধানদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বজায় ছিল। তবে বর্তমানে এ ধরনের আলোচনা কিছুটা স্থগিত রয়েছে বলে জানান তিনি।
যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা বাড়ছে
পুতিনের বিশকেক সফরকালেই ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। উভয় পক্ষ একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে আকাশপথে হামলা বাড়িয়েছে, যার অনেকগুলো ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নেই বলে জানা গেছে।
দশ দেশের রাজনৈতিক-নিরাপত্তা জোট এসসিওর এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ বেশ কয়েকজন বিশ্বনেতা অংশ নেন। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও একাধিক ফ্রন্টে চাপের মুখে থাকা রাশিয়ার জন্য এই সম্মেলনকে নিজেদের প্রভাব পুনরুদ্ধারের একটি মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
