কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সৃষ্ট দীর্ঘদিনের তীব্র গ্যাস সংকটে কিছুটা স্বস্তির বার্তা এসেছে। টার্মিনালের মেরামত শেষে আমদানি করা জ্বালানির প্রবাহ বাড়তে থাকায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ ১০০ কোটি ঘনফুট অতিক্রম করেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে এলএনজি (পুনর্বাতায়িত রূপান্তর) থেকে ১০১ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে দেশীয় বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া ১৬০ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট যুক্ত হয়ে মোট সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬২ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট।
এক দিনের ব্যবধানে এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুট। এর আগের দিন অপরাহ্ণে এলএনজি সরবরাহ ছিল ৭৬ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট, যা ওই রাতে বেড়ে ৯৮ কোটি ঘনফুটে পৌঁছায়। মঙ্গলবারে তা ১০০ কোটি ঘনফুটের ঘর অতিক্রম করে।
ঘাটতির পেছনের কারণ
গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে ‘এক্সিলারেট এনার্জি’ পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে টার্মিনালটির একটি প্রধান বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের বড় ঘাটতি তৈরি হয়। ফলে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং আবাসিক বাসাবাড়িতে রান্নার চুলায় তীব্র সংকট দেখা দেয়।
মেরামতকাজ শেষে গত ১৫ আগস্ট টার্মিনালটি পুনরায় চালু করার উপযোগী করা হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে কার্গো জাহাজের সংকট থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
চাহিদা ও সরবরাহে অনিশ্চয়তা
পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এলএনজি সরবরাহ বাড়ায় শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়বে। তবে দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদার তুলনায় বর্তমান সরবরাহ এখনো কম।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত কার্গো জাহাজ আগমন ও খালাস নিশ্চিত করা না গেলে সরবরাহের এই ইতিবাচক ধারা দীর্ঘস্থায়ী করা কঠিন হতে পারে। ফলে সংকট পুরোপুরি নিরসনে খোলা বাজার ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির এলএনজি কার্গো আনয়ন সচল রাখা জরুরি।

মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন
মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় অনুমোদন প্রয়োজন।