চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্বস্ত সংবাদ, পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি

বাস্তুতন্ত্রের বড় হুমকি ‘এআই ট্রেন্ড’: এক ছবিতেই ব্যয় ০.২৯ ইউনিট বিদ্যুৎ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চ্যাটজিপিটির ‘৮০-র দশকের ছবি’ তৈরির ট্রেন্ড জনপ্রিয় হলেও নেপথ্যে দেখা দিয়েছে মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকি। একটি এআই ছবি তৈরিতে প্রায় ০.২৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্বন নির্গমন বৃদ্ধি ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

Read in English →
ছবি তৈরির নেপথ্যে বিপুল বিদ্যুৎ খরচ
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ২ মিনিট ৭ জন এই সংবাদটি পড়েছেন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে চ্যাটজিপিটি-র ‘আশির দশকের ছবি’ (80s Photo Trend) তৈরির ডিজিটাল ট্রেন্ড। ব্যবহারকারীরা নিজেদের সাধারণ ছবি আপলোড করে মুহূর্তেই তা রূপান্তরিত করছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর তৈরি রেট্রো স্টাইলের নান্দনিক ছবিতে। তবে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের এই জোয়ারের আড়ালে দেখা দিয়েছে এক গভীর পরিবেশগত চিন্তা। প্রযুক্তি গবেষকরা সতর্ক করছেন, এ ধরনের বিনোদনমূলক এআই ব্যবহারের হিড়িক পৃথিবীর জ্বালানি সম্পদ ও বাস্তুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক চাপ ফেলছে।

ছবি তৈরির নেপথ্যে বিপুল বিদ্যুৎ খরচ
সাধারণত একটি ডিজিটাল ছবি তোলার ক্ষেত্রে যে পরিমাণ শক্তি ব্যয় হয়, এআই দিয়ে একটি নতুন ছবি ‘জেনারেট’ বা রূপান্তর করতে তার চেয়ে বহুগুণ বেশি শক্তির প্রয়োজন পড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটি এবং ওপেন-সোর্স এআই প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেস’ (Hugging Face)-এর একটি যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

গবেষণায় দেখা গেছে, একটিমাত্র এআই ছবি তৈরি করতে প্রসেসিং সিস্টেম ও ডেটা সেন্টারের জটিল প্রক্রিয়াভেদে আনুমানিক ০.০১ থেকে ০.২৯ কিলোওয়াট-ঘণ্টা (kWh) পর্যন্ত বিদ্যুৎ শক্তি খরচ হয়।

প্রথম দৃষ্টিতে এই পরিমাণকে সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু যখন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মানুষ একই ট্রেন্ডে অংশ নিয়ে প্রত্যেকে ৫ থেকে ১০টি কিংবা তারও বেশি ছবি তৈরি করেন, তখন মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ এক বিশাল অঙ্কে গিয়ে দাঁড়ায়।

কার্বন নির্গমন ও পরিবেশের ওপর প্রভাব
বিশ্বের অধিকাংশ ডেটা সেন্টার ও ক্লাউড সার্ভার এখনো জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস) থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ফলে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে পরোক্ষভাবে বাড়ছে কার্বন ডাই-অক্সাইডের নির্গমন।

গবেষকদের মতে, প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ কার্বন বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়, এআই-এর হাজার হাজার সার্ভার চব্বিশ ঘণ্টা সচল রাখতে গিয়ে সেই ক্ষতিকর প্রভাব কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া এসব শক্তিশালী ডেটা সেন্টার ঠান্ডা বা কুলিং প্রসেসে রাখতে প্রতিদিন লাখ লাখ লিটার বিশুদ্ধ পানির অপচয় ঘটে, যা সুপেয় পানির উৎসগুলোর জন্য বড় হুমকি।

করণীয় ও দায়িত্বশীল এআই ব্যবহার
জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির সচেতনতা তৈরিতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো:

  • প্রয়োজন ছাড়া এআই ব্যবহার কমানো: নিছক ট্রাই করার জন্য বা ট্রেন্ডে ভাসতে একই ছবির অসংখ্য এআই সংস্করণ তৈরি করা থেকে বিরত থাকা।

  • সচেতনতা বৃদ্ধি: ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ও শক্তির অপচয় সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা।

  • গ্রিন কম্পিউটিং: এআই সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য শক্তি (সৌর ও বায়ু বিদ্যুৎ) ব্যবহারের দিকে বাধ্য করা।

ডিজিটাল দুনিয়ার রূপান্তরকে উপভোগ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের পৃথিবীর পরিবেশ টিকিয়ে রাখতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের বড় দাবি।

শেয়ার করুন

সংবাদটি ছড়িয়ে দিন

Facebook X LinkedIn Telegram
আপনার প্রতিক্রিয়া

সংবাদটি কেমন লাগলো?

পাঠকের মতামত

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় অনুমোদন প্রয়োজন।

এইমাত্র ও সাম্প্রতিক

সর্বশেষ সংবাদ

পাঠকের পছন্দ

সর্বাধিক পঠিত

চাকরি বিজ্ঞাপন

আপনার প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করুন

JAR NEWS-এ দেশি-বিদেশি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি, নিয়োগ ও ক্যারিয়ার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা যাবে। নির্বাচিত বিজ্ঞাপন পেইড/প্রমোটেড পোস্ট হিসেবেও প্রকাশ করা যাবে।