চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্বস্ত সংবাদ, পরিষ্কার দৃষ্টিভঙ্গি

ডিজিটাল স্ক্রিনটাইম ও এআই ট্রেন্ডের হিড়িক: দেখা দিচ্ছে ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’ ও অনিদ্রার সমস্যা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই ছবি তৈরি ও টানা স্ক্রিন ব্যবহারের জনপ্রিয়তায় নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন ব্যবহারকারীরা। অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইমের ফলে চোখের শুষ্কতা, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া এবং মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসৃত কমে অনিদ্রার তীব্র সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

Read in English →
টানা স্ক্রিন ব্যবহারের জনপ্রিয়তায় নতুন করে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন ব্যবহারকারীরা।
পড়তে সময় লাগবে প্রায় ২ মিনিট ৩ জন এই সংবাদটি পড়েছেন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ফটো ট্রেন্ড, ভিডিও রিইলস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নানান টুলের পেছনে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছেন সব বয়সী মানুষ। বিনোদনের ছলে টানা মোবাইল ও কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকার এই প্রবণতা বর্তমান সময়ে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম মানুষের চোখের দৃষ্টিশক্তির পাশাপাশি ঘুমের চক্র ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

ডিজিটাল আই স্ট্রেন ও চোখের শুষ্কতা
টানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চোখ। চিকিত্সাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেন’ (Digital Eye Strain) বা ‘কম্পিউটার ভিশন সিন্ড্রোম’।

চিকিৎসকদের মতে:

  • চোখ শুষ্ক হওয়া: সাধারণত মানুষ মিনিটে ১৫ থেকে ২০ বার চোখের পাতা ফেলে। কিন্তু স্ক্রিনের দিকে একধ্যানে তাকিয়ে থাকলে পাতা ফেলার হার কমে মিনিটে ৫ থেকে ৭ বারে নেমে আসে। ফলে চোখের আর্দ্রতা কমে চোখ শুকিয়ে যায় ও চুলকানি দেখা দেয়।

  • দৃষ্টি ঘোলাটে হওয়া: একটানা কাছ থেকে আলোকরশ্মি চোখে পড়ার কারণে চোখের পেশি অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, যার ফলে সাময়িকভাবে ঝাপসা দেখা বা মাথাব্যথার সমস্যা হতে পারে।

মেলাটোনিন হ্রাস ও মারাত্মক অনিদ্রা
রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রোল করা এবং এআই ট্রেন্ডে যুক্ত থাকার ফলে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ঘুমের চক্র। স্মার্টফোন বা অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস থেকে নির্গত ‘ব্লু লাইট’ বা নীল আলো মস্তিষ্কে ‘মেলাটোনিন’ নামক ঘুম উদ্দীপক হরমোন তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে রাতে সহজে ঘুম আসতে চায় না এবং দীর্ঘমেয়াদে তা স্থায়ী অনিদ্রা বা ‘ইনসোমনিয়া’য় রূপ নেয়। অনিদ্রার কারণে মেজাজ খিটখিটে হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের মতো আনুষঙ্গিক স্বাস্থ্য জটিলতা দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ ও বাঁচার উপায়
ডিজিটাল দুনিয়ার প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব হলেও কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস মেনে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব:

  • ২০-২০-২০ নিয়ম মানা: প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর অন্তত ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে ২০ সেকেন্ডের জন্য তাকিয়ে চোখের পেশিকে বিশ্রাম দিন।

  • স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণ: ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করা।

  • নাইট মোড ও আই প্রটেকশন: ডিভাইসে ‘ব্লু লাইট ফিল্টার’ বা নাইট মোড চালু রাখা এবং প্রয়োজনে অ্যান্টি-গ্লেয়ার চশমা ব্যবহার করা।

  • চোখের ব্যায়াম ও পানি পান: শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা এবং চোখে ঘন ঘন পানির ঝাপটা দিয়ে আর্দ্রতা বজায় রাখা।

সুস্থ জীবনযাপনের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিজের শারীরিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

শেয়ার করুন

সংবাদটি ছড়িয়ে দিন

Facebook X LinkedIn Telegram
আপনার প্রতিক্রিয়া

সংবাদটি কেমন লাগলো?

পাঠকের মতামত

মন্তব্য (0)

এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় অনুমোদন প্রয়োজন।

এইমাত্র ও সাম্প্রতিক

সর্বশেষ সংবাদ

পাঠকের পছন্দ

সর্বাধিক পঠিত

চাকরি বিজ্ঞাপন

আপনার প্রতিষ্ঠানের চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করুন

JAR NEWS-এ দেশি-বিদেশি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরি, নিয়োগ ও ক্যারিয়ার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা যাবে। নির্বাচিত বিজ্ঞাপন পেইড/প্রমোটেড পোস্ট হিসেবেও প্রকাশ করা যাবে।