স্বাধীন গণমাধ্যম ও অবাধ মতপ্রকাশের সুপরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বর্তমান সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান।
বুধবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে তাঁর ও প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। নবনিযুক্ত তথ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত দুদেশের পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তন
বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ধারায় একটি গঠনমূলক রূপান্তর আনার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বর্তমানে প্রধান বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংবাদ সমান গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে।
বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে আন্দালিভ রহমান বলেন, “বিগত ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা শুভকর ছিল না। তবে বর্তমান সরকার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য না রেখে স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে রাষ্ট্রে একটি স্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাইছে।”
অপতথ্য প্রতিরোধ ও এআই ব্যবহারের জোর
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য, ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে বিভ্রান্তি তৈরি এবং ভুল তথ্যের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার রোধে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরা হয় বৈঠকে।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ভুয়া সংবাদের সবচেয়ে বড় শিকার হন সাধারণ নাগরিকেরা। সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখতে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। এর জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথ্য ও সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (Stakeholders) সঙ্গে আলোচনা ও উন্মুক্ত মতবিনিময়ের ওপর তাগিদ দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ও রোহিঙ্গা সংকট
সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ক্রমশ আরও দৃঢ় হচ্ছে। বাণিজ্য ও যৌথ বিনিয়োগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতে সংক্রামক ব্যাধি দূরীকরণে মার্কিন সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তায় ওয়াশিংটনের নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক জোটে থাকার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বিতর্কিত সাইবার সুরক্ষা আইন সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তথ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, গণমাধ্যমকে দমিয়ে রাখা বা নিয়ন্ত্রণ করার কোনো অভিপ্রায় সরকারের নেই। মতপ্রকাশের অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখেই একটি নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ডিজিটাল মাধ্যম তৈরিতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন
মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় অনুমোদন প্রয়োজন।