ভূ-রাজনৈতিক চাপ এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা সংকটের মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ সুসংহত রাখতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬ বছরের অবশিষ্ট সময়ের জন্য ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ক্রয়ের আওতায় চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক’ ও ‘পেট্রো চায়না’ এবং ইন্দোনেশিয়ার ‘বিএসপি’ থেকে জিটুজি (সরকার টু সরকার) চুক্তিতে জ্বালানি তেল কেনা হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
দরপত্র ছাড়াই আমদানির নীতিগত সিদ্ধান্ত
ক্রয় কমিটির পাশাপাশি একই দিনে আয়োজিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা ছাড়াই সরাসরি প্রক্রিয়ায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন ‘গ্যাস ওয়েল’ ও ‘জেট ফুয়েল’ কেনার নীতিগত অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জিটুজি এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি ক্রয়ের যে আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল, বর্তমান বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে তা শিথিল করা হয়েছে। তবে কত হাজার টন পরিশোধিত তেল এই অর্থমূল্যে সরবরাহ করা হবে, তা নিশ্চিত করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও বিকল্প উৎসের অনুসন্ধান
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও জ্বালানি বিশ্লেষকদের তথ্যানুযায়ী, বিগত প্রায় ছয় মাস ধরে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্তব্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বাধার কারণে বাব-এল-মান্দেব প্রণালীতেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে গভীর হুমকি সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও লোহিত সাগরের এই সংকটের ফলে জ্বালানির প্রধান সরবরাহ লাইন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ার বাইরে বিকল্প দেশগুলো থেকে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশকে বাড়তি দামে এবং দ্রুততম সময়ে এলএনজি ও পরিশোধিত জ্বালানি কিনতে হচ্ছে।
এক নজরে সাম্প্রতিক গ্যাস ও জ্বালানি আমদানি:
-
পরিশোধিত তেল: চীনের দুটি এবং ইন্দোনেশিয়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি থেকে জিটুজি চুক্তিতে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার তেল।
-
গ্যাস ওয়েল ও জেট ফুয়েল: দরপত্র ছাড়া ৬ লাখ ৯৫ হাজার টন।
-
এলএনজি (আগস্ট): জরুরি চাহিদা মেটাতে দুই দফায় মোট ২২ কার্গো এলএনজি আন্তর্জাতিক ৭টি কোম্পানি থেকে সরাসরি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
-
এলপিজি (আগস্ট): বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ৫ হাজার টন জরুরি এলপিজি আনয়নের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে।
জরুরি ভিত্তিতে গৃহীত সরকারের এই পদক্ষেপে বাজার স্থায়িত্ব পাবে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে জ্বালানি ঘাটতি অনেকটাই মেটানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন
মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় অনুমোদন প্রয়োজন।