দীর্ঘদিনের মধ্যপ্রাচ্য সামরিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে সৌদি আরবের কাছে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ৪৮টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে এই প্রস্তাবিত চুক্তি কার্যকর হওয়া নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও দেশটির বেশ কয়েকজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ইসরায়েলি আধিপত্য ও চীন ঝুঁকি
বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এই যুদ্ধবিমানের রাডার ও নজরদারি এড়িয়ে চলা বা ‘স্টিলেথ’ প্রযুক্তি অনন্য। এতদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলই এককভাবে এই বিমান ব্যবহার করে আসছিল। মার্কিন আইনে ইসরায়েলকে অঞ্চলের অন্যান্য দেশের চেয়ে সামরিক প্রযুক্তিতে এগিয়ে রাখার (QME) বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফলে সৌদি আরবকে সমানসংখ্যক (৪৮টি) এফ-৩৫ দেওয়া হলে ইসরায়েলের একক সামরিক সুবিধা ক্ষুণ্ণ হওয়ার প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে ইসরায়েলের কাছে ৫০টি এফ-৩৫ রয়েছে, যা তারা বাড়িয়ে ১০০টিতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
অন্যদিকে, ইলিনয়ের ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রাজা কৃষ্ণমূর্তিসহ একাধিক আইনপ্রণেতা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সম্পর্কের কারণে এফ-৩৫-এর মতো সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি চীনের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তরের যুক্তি
উদ্বেগের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সৌদি আরবকে এফ-৩৫ দেওয়া হলে তা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। রিয়াদকে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষা ও ন্যাটো-বহির্ভূত বড় মিত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে দপ্তরটি দাবি করেছে, এই সরঞ্জাম সরবরাহে অঞ্চলে সামরিক ভারসাম্য নষ্ট হবে না।
চুক্তির পেছনের প্রেক্ষাপট
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এর আগে রিয়াদে দুই নেতার বৈঠকের সময় প্রায় ১৪২ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি সই হয়েছিল, যা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি। প্রতিটি প্রায় ৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার মূল্যের এই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলো প্রস্তুত করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর রিয়াদের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রচণ্ড আপত্তি উঠেছিল। পরবর্তীতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার (আব্রাহাম অ্যাকর্ডস) শর্তে সৌদিকে এফ-৩৫ দেওয়ার প্রাথমিক রূপরেখা ভাবলেও সেসময় তা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এই পদক্ষেপ পর্যালোচনা ও সাময়িকভাবে আটকে দেওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেসের হাতে ৩০ দিন সময় রয়েছে।

মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন
মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় অনুমোদন প্রয়োজন।