বিগত হাসিনা সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে করা শতাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। এই পর্যালোচনার ফলাফল খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৯ কার্যদিবসব্যাপী চলা তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্তির পরদিন, শুক্রবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
১০১টি এমওইউ পর্যালোচনা ও বৈদেশিক নীতি
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার চুক্তির আওতায় বন্ধুরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচল এবং চুক্তি বাতিলের গুঞ্জন প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, “আমরা বিগত সরকারের করা ১০১টি এমওইউ ও চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনা করছি। এর ফল অনতিবিলম্বে আপনারা পাবেন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সব দেশের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায়, তবে জাতীয় স্বার্থ ও আত্মমর্যাদাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। পাশাপাশি, বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেন।
অধিবেশনের সফলতা ও সংবিধান সংশোধন
চিফ হুইপ জানান, শেষ হওয়া তৃতীয় অধিবেশনে মোট ৬টি বিল পাস হয়েছে এবং ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এটি বাস্তবায়ন করতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।
পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিল ও মানবিক আইন
পাস হওয়া ছয়টি বিলের মধ্যে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী’কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। নতুন এই আইনের ফলে বাবা-মা তাঁদের জীবদ্দশায় সন্তানকে সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করার পরও সেটির ওপর ভোগের অধিকার বজায় রাখতে পারবেন, যা বৃদ্ধ বাবা-মাকে সুরক্ষা দেবে।
এ ছাড়া ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ পাস হয়েছে, যেখানে অংশীজন ও প্রবীণ আইনজীবীদের মতামতের ভিত্তিতে এবং অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও ঋণ পরিশোধ
বিগত সরকারের আর্থিক অনিয়মের সমালোচনা করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বিপরীতে বর্তমান সরকার গত পাঁচ মাসে ২০৫ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতের অন্যায্য ক্যাপাসিটি চার্জ এবং দায়মুক্তির বিধান বাতিল করার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন
মন্তব্য প্রকাশের আগে সম্পাদকীয় অনুমোদন প্রয়োজন।