আইসিসির বোর্ডসভায় ভোটাভুটিতে হেরে টি-২০
বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের। এরপরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছিল টি-২০ বিশ্বকাপ খেলতে। আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির (ডিআরসি) কাছে আবেদনও
করেছিল বিসিবি। সেই আবেদন অবশ্য বাতিল করে দেয় আইসিসি। এরপর ক্রিকেটের শাসক সংস্থা
আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডকে চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বিসিবিকে জানিয়ে
দেয়, বাংলাদেশের পরিবর্তে টি-২০ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড খেলবে। স্কটিশ ক্রিকেট বোর্ডকে
চিঠিতে জানায়, স্কটল্যান্ডকে টি-২০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের
পরিবর্তে। গত পরশু প্রায় ১০ ঘণ্টা স্থায়ী বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়, আইসিসির সিদ্ধান্তের বিপক্ষে বিসিবি আর যাবে না। শুধু তাই নয়, আইসিসির সিদ্ধান্ত
মেনে নিয়েছে। টি-২০ বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে এখন কেন আইসিসির সিদ্ধান্ত
মেনে নিল বিসিবি? মেনে না নিলে অদূর ভবিষ্যতে কি বাংলাদেশের ক্রিকেট বড় কোনো সংকটের
মুখে পড়ত? পরিচালনা পর্ষদের সভায় আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার পর কথা বলেন বিসিবি
পরিচালক ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, ‘আমরা আইসিসির বোর্ডের সিদ্ধান্তই
মেনে নিয়েছি। যেহেতু আইসিসি বলেছে যে, আমরা খেলতে যেতে পারব না বা শ্রীলঙ্কায় আমাদের
খেলা স্থানান্তর করতে পারবে না তারা, এই ক্ষেত্রে আমরা ভারতে গিয়ে খেলতে পারছি না।
আমাদের অবস্থান ওখানেই আছে। এখানে আমাদের আর আলাদা কোনো আরবিট্রেশন বা কিছুর মধ্যেই
আমরা যাচ্ছি না।’ এতেই স্পষ্ট বিসিবি আর কোনো আইনি পদক্ষেপে যাচ্ছে না। বাংলাদেশের
টি-২০ বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যায় ২১ জানুয়ারি আইসিসির বোর্ড সভায়। ওই সভায় বিসিবি ভারত থেকে
ভেন্যু সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছিল। বিসিবির অনুরোধ হেরে যায় আইসিসির
বোর্ড সভায় ১৪-২ ভোটে। ভোটাভুটিতে বিসিবির ক্রিকেট কূটনীতিটাও যে কত দুর্বল, সেটা স্পষ্ট
হয়েছে। ভোটাভুটির পর আইসিসি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেছে, ‘ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ
দলের নিরাপত্তা বা সুরক্ষার ক্ষেত্রে কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য হুমকি নেই।’