প্রায় দুই মাস আগে অন্তর্বর্তী সরকারের
উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন দুই ছাত্র প্রতিনিধি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও
মাহফুজ আলম। এক মাস আগে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পদ থেকে খোদা বখশ চৌধুরীও
পদত্যাগ করেন। তারা পদত্যাগ করলেও মন্ত্রিপাড়ায় বরাদ্দকৃত সরকারি বাসা এখনো
ছাড়েননি।
তারা
কবে বাসা বুঝিয়ে দেবেন বা ছাড়বেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই গৃহায়ন ও
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছে। এরই মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জাতীয় নাগরিক
পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব
পালন করছেন এ বাসভবন থেকেই। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার কাছে
জানতে চাইলে এ নিয়ে কেউ মন্তব্য করতে চাননি। একজন অতিরিক্ত সচিব নাম প্রকাশ না করে
বলেন, এটি বড়দের বিষয় তারাই ভালো জানেন। সরকারি বাসা কেন ছাড়ছেন না সে ব্যাপারে
পদত্যাগ করা ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি। সূত্রে
জানা গেছে, সরকারি বাসভবনে থেকেই তারা নিজেদের নিত্য কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া হেয়ার রোডে ‘ছায়াবীথি-৬’ নম্বর ডুপ্লেক্স
বাংলোতে বাস করছেন। পদত্যাগের পর আসিফ মাহমুদ জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ
দিয়েছেন। তাকে দলের মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান করা
হয়েছে। মন্ত্রীদের বাসভবনে থেকে নানা রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও জানা
গেছে।
আরেক
ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ‘ছায়াবীথি-৩’ নম্বর ডুপ্লেক্স বাংলোতে বসবাস করছেন। আর
খোদা বখশ চৌধুরী থাকেন ‘মিনিস্টার্স এপার্টমেন্ট-৩’ এ। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের
বিদ্যমান নীতিমালায় মন্ত্রিসভার সদস্য বা জনপ্রতিনিধিরা পদত্যাগের পর কবে সরকারি
বাসভবন ছাড়বেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের
পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আবাসন বরাদ্দ নীতিমালায়
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর দুই
মাস পর্যন্ত বাসভবনে থাকতে পারবেন। তবে সন্তানরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত হলে
আরও চার মাস পর্যন্ত থাকতে পারবেন। কোনো সরকারি কর্মচারী বদলি হলেও এ ক্ষেত্রে
সর্বোচ্চ দুই মাস, সন্তান পড়াশোনা করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস থাকার সুযোগ পান। তবে
মন্ত্রী বা উপদেষ্টাদের বিষয়ে কোনো সময় উল্লেখ নেই। তারা এখনো বাসা ছাড়েননি। এ
বিষয়ে মন্ত্রণালয় আমাদের যে রকম নির্দেশনা দেবে সেটি অনুসরণ করব।