হামলার জন্য প্রস্তুত ইরানের ১৫০০ মিসাইল?

Date: 2026-02-26
news-banner

তেহরানের সামরিক শক্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের বারো দিনের যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ইরান তাদের হারানো শক্তি পুনরুদ্ধারে যে গতি দেখিয়েছে, তা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাবিদদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। 

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রেখেছে, যা যেকোনো মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

সাম্প্রতিক এক গোয়েন্দা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরান তাদের শিল্প সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলছে। যুদ্ধের সময় বেশ কিছু উৎপাদন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাটির গভীরে অবস্থিত তাদের সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র শহরগুলো এখনো অক্ষত রয়েছে। এই ভূগর্ভস্থ ল্যাবরেটরি এবং কারখানাগুলো ব্যবহার করেই তেহরান তাদের কঠিন জ্বালানিচালিত ফাতাহ-১১০ এবং খাইবার শেকানের মতো বিধ্বংসী সিস্টেমগুলো পুনর্গঠন করছে।

ইরানের এই আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডারে সবচেয়ে আলোচিত নাম হলো খোররামশাহর-৪ (খাইবার)। দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশাল ওজন বহনে সক্ষম এবং এর নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষমতা একে অত্যন্ত বিপজ্জনক করে তুলেছে। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি না করার দাবি করে আসছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, যেকোনো সময় এই সীমা অতিক্রম করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তাদের রয়েছে। এর ফলে কেবল ইসরায়েল নয় বরং দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের একাংশ এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও এখন তেহরানের সরাসরি নিশানায় রয়েছে।

ফাত্তাহ সিরিজের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়েও সামরিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ইরান দাবি করছে, তাদের ফাত্তাহ-১ ক্ষেপণাস্ত্রটি শব্দের চেয়ে ১৩ থেকে ১৫ গুণ বেশি দ্রুতগতিতে ছুটতে পারে, যদিও পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা এই দাবির সত্যতা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তবে গত কয়েক বছরের সংঘাতে দেখা গেছে, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে না পারলেও বিপুল সংখ্যায় উৎক্ষেপণের মাধ্যমে যেকোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলতে সক্ষম।

 

image

Leave Your Comments