প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে আট বছরের শিশু
ইরা মনিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বাবু শেখ (৪৫)। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে
তাকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে গলা
কেটে হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশুটির বাড়ি ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম
পেশায় টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল
ইরা মনি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড থানায় আয়োজিত সংবাদ
সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এ তথ্য জানান। পুলিশের
ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার বাবু শেখ এসব তথ্য স্বীকার করেছেন।
জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত শিশুর বাবা মনিরুল ইসলামের
সঙ্গে বাবু শেখের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।
এরই প্রতিশোধ নিতে মনিরুল ইসলামের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, গত রবিবার সকালে ইরা মনিকে চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে
বাড়ি থেকে বের করে বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে যান। সেখান
থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার দুর্গম পাহাড়ে ওঠেন। সেখানে শিশুটিকে
ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় ইরা চিৎকার করে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে
ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত।
রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গল থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেনের
নির্মাণাধীন সড়কের কাছে পৌঁছালে শ্রমিকরা তাকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে
প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার সকালে কুমিরার কাজীপাড়া এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেফতার
করে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও তিনি কুমিরায় মনিরুল ইসলামের বাড়ির
পাশেই ভাড়া থাকতেন।